সাধারণ জ্ঞানভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
১৯৪৮ সালে পাকিস্তান পরিষদে কে বাংলা ভাষাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব রাখেন?
- কধীরেন্দ্রনাথ দত্ত✓
- খআবুল কাশেম
- গমাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- ঘযোগশচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক ঘটনা বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
**ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
— তিনি ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
— তার প্রস্তাবে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভাষা বাংলা হওয়ায় এটি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রাখে।
— তার এই প্রস্তাব গণপরিষদে প্রত্যাখ্যান করা হয়, কিন্তু পরবর্তীকালে তা বাংলা ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
— তিনি পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট সরকারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
— তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) আবুল কাশেম: তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা, কিন্তু তিনি ১৯৪৮ সালে গণপরিষদে বাংলা ভাষার প্রস্তাব উত্থাপন করেননি।
✗ গ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং কৃষক নেতা, কিন্তু তিনি গণপরিষদে বাংলা ভাষার প্রস্তাব উত্থাপন করেননি।
✗ ঘ) যোগশচন্দ্র দাস: তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যিক, কিন্তু তিনি গণপরিষদে বাংলা ভাষার প্রস্তাব উত্থাপন করেননি।
উৎস:
- বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিকার আইনের অধীনে প্রকাশিত সরকারি দলিলপত্র।
- বাংলা একাডেমি প্রকাশিত "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস" গ্রন্থ।
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণা গ্রন্থ ও প্রবন্ধ।
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →