সাধারণ জ্ঞানসভ্যতা, সংস্কৃতি ও বিখ্যাত স্থান
বাংলাদেশের কোন মসজিদকে ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্য স্থান ঘোষনা করেছে ?
- ককুসুম্বা মসজিদ
- খষাট গম্বুজ মসজিদ✓
- গআতিয়া জামে মসজিদ
- ঘছোটো সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর মধ্যে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃত একমাত্র মসজিদ হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।
**ষাট গম্বুজ মসজিদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অবস্থান ও নির্মাণকাল**: ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি নির্মাণ করেন খান জাহান আলী (১৫শ শতাব্দী)। স্থানীয়ভাবে এটি 'ষাট গম্বুজ' নামে পরিচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এতে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ।
— **স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য**:
— মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১০৪ ফুট।
— এটি চারকোণা আকৃতির এবং চারদিকে রয়েছে চারটি মিনার।
— অভ্যন্তরীণ অংশে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ (৭টি সারিতে ১১টি করে) এবং বাইরের দিকে রয়েছে আরও ২৫টি গম্বুজ।
— দেয়ালগুলো পুরু এবং নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ইট ও চুন-সুরকি।
— **ইতিহাস ও গুরুত্ব**:
— খান জাহান আলী ছিলেন একজন সুফি সাধক ও বাংলার মুসলিম শাসকদের অন্যতম। তিনি এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের জন্য অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করেন।
— মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
— **ইউনেস্কো স্বীকৃতি**:
— ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো ষাট গম্বুজ মসজিদকে বিশ্বঐতিহ্য স্থান হিসেবে ঘোষণা করে।
— এটি বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কুসুম্বা মসজিদ: এটি নওগাঁ জেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত নয়।
✗ গ) আতিয়া জামে মসজিদ: টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত। এটি একটি প্রাচীন মসজিদ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্য তালিকাভুক্ত নয়।
✗ ঘ) ছোটো সোনা মসজিদ: এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মসজিদ হলেও ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়নি।
উৎস:
— ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার (https://whc.unesco.org)
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা বিষয়ক গ্রন্থ
— ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্নপত্র (স্কুল পর্যায়)
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →