বাংলাসন্ধি বিচ্ছেদ
‘দীপ্যমান’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?
- ক√দীপ্য + মান
- খ√দিপ্য + মানচ
- গ√দিপ + শানচ
- ঘ√দীপ + শানচ✓
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) √দীপ + শানচ
‘দীপ্যমান’ শব্দটি বাংলা ভাষার একটি বিশেষণ পদ, যা আলোকিত বা উজ্জ্বল অর্থ প্রকাশ করে। এটি সংস্কৃত শব্দ ‘দীপ্যমান’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যার অর্থ ‘প্রদীপ্ত হওয়া’ বা ‘আলোকিত হওয়া’। বাংলা ভাষায় সংস্কৃত থেকে আগত অনেক শব্দই প্রত্যয় যোগের মাধ্যমে গঠিত হয়। এ ধরনের শব্দের বিশ্লেষণ বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘দীপ্যমান’ শব্দটির বিশ্লেষণ:
— ‘দীপ্যমান’ শব্দটি সংস্কৃত ‘দীপ্যমান’ থেকে এসেছে, যার মূল ধাতু হলো ‘দীপ্’ (প্রদীপ্ত হওয়া)।
— সংস্কৃত প্রত্যয় ‘শানচ’ যোগ করে ‘দীপ্যমান’ গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, √দীপ + শানচ = দীপ্যমান।
— ‘শানচ’ প্রত্যয়টি সংস্কৃত ভাষায় বিশেষণ গঠনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ ‘হওয়া’ বা ‘যুক্ত হওয়া’।
— বাংলা ভাষায় সংস্কৃত থেকে আগত অনেক শব্দেই এই ধরনের প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘স্থানীয়’ (স্থান + ষ্ণ্য), ‘জ্ঞানী’ (জ্ঞান + ইনি) ইত্যাদি।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ (ক) √দীপ্য + মান: ‘দীপ্য’ সংস্কৃত ধাতু নয়। মূল ধাতু হলো ‘দীপ্’, যার সাথে ‘শানচ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়। তাই এটি ভুল।
✗ (খ) √দিপ্য + মানচ: ‘দিপ্য’ কোনো সংস্কৃত ধাতু নয়। এছাড়া ‘মানচ’ প্রত্যয়টি সংস্কৃত ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এটি সম্পূর্ণ ভুল।
✗ (গ) √দিপ + শানচ: ‘দিপ’ কোনো সংস্কৃত ধাতু নয়। মূল ধাতু হলো ‘দীপ্’, যার সাথে ‘শানচ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়। তাই এটি ভুল।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৬ সংস্করণ)
— সংস্কৃত ব্যাকরণের মূল সূত্র (পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী)
— বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ)
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →