বাংলাসমাস ও প্রত্যয়
কোন সমাসে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না?
- কউপমিত কর্মধারয়✓
- খরূপক কর্মধারয়
- গউপমান কর্মধারয়
- ঘমধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) উপমিত কর্মধারয়
**কর্মধারয় সমাস সম্পর্কে ভূমিকা:**
বাংলা ব্যাকরণে কর্মধারয় সমাস হলো একটি বিশেষ ধরনের সমাস যেখানে বিশেষণ ও বিশেষ্য পদ মিলে একটি নতুন পদ গঠন করে। কর্মধারয় সমাসকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ কর্মধারয়, উপমান কর্মধারয়, উপমিত কর্মধারয় ও রূপক কর্মধারয়। এদের মধ্যে উপমিত কর্মধারয় সমাসে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না, বরং দুইটি পদের মধ্যে তুলনা করা হয়।
---
**উপমিত কর্মধারয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো কর্মধারয় সমাসের একটি প্রকারভেদ।
— এই সমাসে দুইটি পদের মধ্যে তুলনা করা হয়, কিন্তু সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না।
— উদাহরণ: "মুখ চন্দ্রের ন্যায়" = মুখচন্দ্র (এখানে মুখ ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে, কিন্তু সাধারণ ধর্ম উল্লেখ নেই।)
— উপমিত কর্মধারয় সমাসে সাধারণত "ন্যায়", "অনুযায়ী", "তুল্য" ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয় না।
— উদাহরণ: "কাজলকালো চুল" = কাজলকালো (এখানে চুলের রং কাজলের মতো কালো বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সাধারণ ধর্ম উল্লেখ নেই।)
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) রূপক কর্মধারয়: এই সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্ন ধর্মের উল্লেখ থাকে। উদাহরণ: "চাঁদ মুখের ন্যায়" = চাঁদমুখ (এখানে মুখ চাঁদের মতো নয়, বরং মুখের সৌন্দর্য চাঁদের মতো)। সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে।
✗ গ) উপমান কর্মধারয়: এই সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে তুলনা করা হয় এবং সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে। উদাহরণ: "মুখ চন্দ্রের ন্যায়" = মুখচন্দ্র (এখানে মুখ চন্দ্রের মতো সুন্দর)। সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা হয়েছে।
✗ ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: এই সমাসে মধ্যপদের লোপ ঘটে এবং সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে। উদাহরণ: "সিংহ চিহ্নিত আসন" = সিংহাসন (এখানে আসন সিংহের মতো শক্তিশালী)। সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা হয়েছে।
---
উৎস:
- বাংলা ব্যাকরণ (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
- মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (ড. হায়াৎ মামুদ)
- শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (স্কুল পর্যায়)
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →