বাংলাসমাস ও প্রত্যয়
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে কী বলে?
- কউপপদ তৎপুরুষ✓
- খউপমান কর্মধারয়
- গউপমিত কর্মধারয়
- ঘনিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) উপপদ তৎপুরুষ
**সমাস সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বাংলা ব্যাকরণে সমাস হলো একাধিক শব্দকে একত্রিত করে নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া। কৃদন্ত পদ (ক্রিয়ার ধাতুজাত বিশেষণ) এবং উপপদের (সমাসবদ্ধ পদ গঠনের সময় ক্রিয়ার ধাতুর সাথে যুক্ত বিশেষ্য বা বিশেষণ) মিলনে যে সমাস গঠিত হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
**উপপদ তৎপুরুষ সমাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— উপপদ তৎপুরুষ সমাস হলো তৎপুরুষ সমাসের একটি বিশেষ প্রকার। এখানে পূর্বপদের শেষে ক্রিয়ার ধাতু যুক্ত থাকে এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
— উদাহরণ: "জল দেয় যে" → জলদ (জলদানকারী), "গৃহ নির্মাণ করে যে" → গৃহনির্মাতা।
— এ ধরনের সমাসে পূর্বপদটি সাধারণত ক্রিয়ার ধাতু (কৃদন্ত পদ) এবং পরপদটি বিশেষ্য বা বিশেষণ হয়।
— উপপদ তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান নয়, পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
— বাংলা ব্যাকরণে উপপদ তৎপুরুষ সমাসকে "উপপদ সমাস" নামেও অভিহিত করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) উপমান কর্মধারয়: উপমান কর্মধারয় সমাসে দুইটি পদ সমান বা তুলনীয় অর্থ প্রকাশ করে (যেমন: তুষারের ন্যায় শুভ্র → তুষারশুভ্র)। এখানে কৃদন্ত পদ থাকে না।
✗ গ) উপমিত কর্মধারয়: উপমিত কর্মধারয় সমাসে দুইটি পদ তুলনা করা হয়, কিন্তু পূর্বপদটি সাধারণত বিশেষ্য হয় (যেমন: পদ্মের ন্যায় কমল → পদ্মকমল)। এখানেও কৃদন্ত পদ থাকে না।
✗ ঘ) নিত্য সমাস: নিত্য সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সমস্ত পদটি ব্যতীত অন্য কোনো পদ পাওয়া যায় না (যেমন: আজকাল)। এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস নয়।
**উৎস:**
- বাংলা ব্যাকরণ (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
- বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ (ড. হায়াৎ মামুদ)
- ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্নব্যাংক (স্কুল পর্যায়-২)
পরীক্ষা: ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্ন সমাধান (স্কুল পর্যায় ২)
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →