বাংলাসমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ
অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ কোন ধরনের শব্দ ?
- কযৌগিক
- খমৌলিক
- গযোগরূঢ়
- ঘরূঢ়ি✓
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) রূঢ়ি
ভাষাবিজ্ঞানে শব্দের অর্থ অনুসারে শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কিত প্রশ্ন।
**রূঢ়ি শব্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রূঢ়ি শব্দ হলো সেইসব শব্দ যেগুলো তাদের প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য অর্থ ধারণ করে। অর্থাৎ, শব্দটি মূল অর্থ হারিয়ে নতুন অর্থ লাভ করে।
— উদাহরণস্বরূপ, "হরিণ" শব্দটি সংস্কৃত "হরি-ণ" থেকে এসেছে যার অর্থ "বেগবান" বা "দ্রুতগামী"। কিন্তু বাংলায় "হরিণ" বলতে আমরা যে প্রাণীটিকে বুঝি তার সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। এখানে শব্দটি তার মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিশেষ প্রাণীর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
— রূঢ়ি শব্দের আরেকটি উদাহরণ হলো "সিংহ"। সংস্কৃত "সিংহ" শব্দটির অর্থ ছিল "বজ্র" বা "গর্জনকারী", কিন্তু বাংলায় এটি সিংহ নামক প্রাণীকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
— রূঢ়ি শব্দকে কখনো কখনো "অর্ধ-তৎসম" শব্দও বলা হয়, কারণ এগুলো সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত হলেও অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) যৌগিক: যৌগিক শব্দ হলো যেসব শব্দ একাধিক শব্দাংশ বা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। যেমন: "দয়ালু" (দয়া + আলু)। "হরিণ" একক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি যৌগিক নয়।
✗ খ) মৌলিক: মৌলিক শব্দ হলো যেসব শব্দ অন্য কোনো শব্দ থেকে উদ্ভূত নয় বা গঠিত হয়নি। যেমন: "পানি", "আগুন"। "হরিণ" সংস্কৃত থেকে আগত হলেও বাংলায় এটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে অর্থগত দিক থেকে এটি রূঢ়ি শ্রেণিভুক্ত।
✗ গ) যোগরূঢ়: যোগরূঢ় শব্দ হলো সেইসব শব্দ যেগুলো একাধিক অর্থের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যেমন: "রাজপুত্র" (রাজা + পুত্র)। "হরিণ" একক অর্থ বহন করে বলে এটি যোগরূঢ় নয়।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
— ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক (যেমন: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর "বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত")
— ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্নব্যাংক (স্কুল পর্যায়)
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →