সাধারণ জ্ঞানসভ্যতা, সংস্কৃতি ও বিখ্যাত স্থান
ষাট গম্বুজ মসজিদে প্রকৃত গম্বুজ কয়টি?
- ক৬০টি
- খ৬৬টি
- গ৭৭টি
- ঘ৮১টি✓
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৮১টি
ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন। এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত। মসজিদটির নাম "ষাট গম্বুজ" হলেও প্রকৃতপক্ষে এখানে গম্বুজের সংখ্যা অনেক বেশি।
**ষাট গম্বুজ মসজিদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— নির্মাণকাল: মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ১৫শ শতাব্দীতে (১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে)। তৎকালীন বাংলার স্বাধীন সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে হযরত খান জাহান আলী (রহ.) এটি নির্মাণ করেন।
— স্থাপত্যশৈলী: মসজিদটি নির্মাণে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব দেখা যায়। এটি আয়তাকার এবং চারপাশে দেয়াল ঘেরা। মূল কিবলা দেওয়ালের দিকে রয়েছে বিশালাকার মেহরাব।
— গম্বুজ সংখ্যা: মসজিদটির নাম "ষাট গম্বুজ" হলেও প্রকৃতপক্ষে এখানে মোট গম্বুজ রয়েছে **৮১টি**। এর মধ্যে প্রধান কক্ষের উপর রয়েছে **৭৭টি গম্বুজ** এবং চার কোণের চারটি মিনারের উপর রয়েছে **৪টি গম্বুজ**। মোট গম্বুজের সংখ্যা ৮১টি হওয়ায় এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ হিসেবে পরিচিত।
— অন্যান্য বৈশিষ্ট্য:
— মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১০৮ ফুট।
— এটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ইট এবং চুন-সুরকি।
— মসজিদটির চারপাশে রয়েছে অসংখ্য সমাধি, যার মধ্যে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর সমাধিও অন্তর্ভুক্ত।
— মসজিদটির পূর্ব দিকে রয়েছে একটি বিশাল দীঘি, যা স্থানীয়ভাবে "দীঘি" নামে পরিচিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ৬০টি: এটি মসজিদটির নামের সাথে মিল থাকায় অনেকেই ভুল করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে গম্বুজের সংখ্যা অনেক বেশি।
✗ খ) ৬৬টি: এটি একটি অনুমানভিত্তিক সংখ্যা। প্রকৃত সংখ্যার সাথে কোনো মিল নেই।
✗ গ) ৭৭টি: এটি প্রধান কক্ষের গম্বুজের সংখ্যা। তবে মোট গম্বুজের সংখ্যা আরও বেশি।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (www.bangladesh.gov.bd)
— ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান তালিকা (whc.unesco.org)
— বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
পরীক্ষা: ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্ন সমাধান (স্কুল পর্যায়-২)
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →