বাংলাভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার
শরীর>শরীল- শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরণের নিয়ম প্রযোজ্য?
- কসমীভবন
- খবিষমীভবন✓
- গঅসমীভবন
- ঘধ্বনিবিপর্যয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) বিষমীভবন
ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের বিভিন্ন নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সমীভবন, বিষমীভবন, অসমীভবন ও ধ্বনিবিপর্যয় উল্লেখযোগ্য। এসব নিয়মের মাধ্যমে শব্দের উচ্চারণ ও বানান পরিবর্তিত হয়।
**বিষমীভবন** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— বিষমীভবন হলো এমন একটি ধ্বনি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া যেখানে দুটি সমধ্বনির মধ্যে একটি পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়।
— এটি সাধারণত সমধ্বনি বা কাছাকাছি উচ্চারণের ধ্বনির ক্ষেত্রে ঘটে।
— উদাহরণ: "শরীর" শব্দটি উচ্চারণের সময় "র" ধ্বনির প্রভাবের কারণে "শরীল" হয়ে যায়। এখানে "র" ধ্বনির কারণে "র" ও "ই" ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে "ল" ধ্বনিতে পরিণত হয়েছে।
— বিষমীভবনের ফলে শব্দের উচ্চারণ সহজতর হয়, তবে তা সর্বদা মান্য বানান নয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) সমীভবন: সমীভবন হলো দুটি ধ্বনি একে অপরের কাছাকাছি উচ্চারণ হওয়া। যেমন: "জন্ম" > "জোনো"। এটি বিষমীভবনের বিপরীত প্রক্রিয়া।
✗ গ) অসমীভবন: অসমীভবন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুটি ধ্বনি একে অপরের কাছাকাছি উচ্চারণ হওয়া থেকে দূরে সরে যায়। এটি বিষমীভবনের বিপরীত।
✗ ঘ) ধ্বনিবিপর্যয়: ধ্বনিবিপর্যয় হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শব্দের দুটি ধ্বনি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। যেমন: "বউদিদি" > "বউদিদি" নয়, বরং "দিদি বউ" এর মতো অবস্থান পরিবর্তন।
উৎস:
— বাংলা ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব বিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থ, যেমন: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর "বাংলা ভাষার ব্যাকরণ"।
— বিভিন্ন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও সমাধান।
— বাংলা একাডেমির প্রকাশিত ধ্বনিতত্ত্ব বিষয়ক রেফারেন্স।
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →