বাংলাবাগধারা ও বাগবিধি
‘তামার বিষ’ বাগধারাটির অর্থ কী?
- কঅর্থের কুপ্রভাব✓
- খঅপচয়
- গক্ষণস্থায়ী বস্তু
- ঘকৃপণের কড়ি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) অর্থের কুপ্রভাব
'তামার বিষ' বাগধারাটি বাংলা সাহিত্যে প্রচলিত একটি প্রবাদমূলক বাক্যাংশ, যার মাধ্যমে অর্থের নেতিবাচক প্রভাব বা ক্ষতিকর দিককে বোঝানো হয়।
‘তামার বিষ’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ‘তামার বিষ’ একটি সংস্কৃত প্রবাদ থেকে উদ্ভূত। সংস্কৃতে ‘তাম্র’ অর্থ তামা এবং ‘বিষ’ অর্থ বিষ। তামা একটি মূল্যবান ধাতু হলেও অতিরিক্ত অর্থের কারণে মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে একে ‘বিষ’ হিসেবে তুলনা করা হয়েছে।
— বাংলা সাহিত্যে এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয় যখন কোনো ব্যক্তির অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভ তাকে নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, কারো অর্থের প্রতি লোভ তাকে অন্যায় কাজে প্ররোচিত করলে বলা হয়, ‘তোমার তামার বিষে মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছ।’
— প্রবাদটির উৎপত্তি হয়েছে প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থা থেকে, যেখানে অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিকে মানবিক মূল্যবোধের ক্ষতির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
— বাংলা ভাষায় প্রচলিত অন্যান্য বাগধারার মতো ‘তামার বিষ’ও মানুষের চারিত্রিক দুর্বলতাকে তুলে ধরে। এটি মূলত অর্থের ক্ষতিকর প্রভাবকে নির্দেশ করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) অপচয়: ‘তামার বিষ’ অর্থের ক্ষতিকর প্রভাব বোঝায়, অপচয় নয়। অপচয় বলতে সম্পদের অব্যবহার বা অপব্যয়কে বোঝায়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
✗ গ) ক্ষণস্থায়ী বস্তু: এই বাগধারাটি ক্ষণস্থায়ী বস্তুর সাথে সম্পর্কিত নয়। ক্ষণস্থায়ী বস্তু বলতে এমন কিছুকে বোঝায় যা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
✗ ঘ) কৃপণের কড়ি: ‘কৃপণের কড়ি’ বলতে কৃপণ ব্যক্তির অর্থকে বোঝায়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। এটি অর্থের প্রতি লোভ বা ক্ষতিকর প্রভাবকে নির্দেশ করে না।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (তৃতীয় সংস্করণ)
— বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত প্রবাদ ও বাগধারা সংকলন (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি পাঠ্যপুস্তক
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →