বাংলাসমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ
‘উষ্ণীষ’-এর শব্দার্থ-
- কঅত্যন্ত উষ্ণ
- খকুসুম কুসুম উষ্ণ
- গপাগড়ি✓
- ঘশীতের আমেজ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) পাগড়ি
'উষ্ণীষ' শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত এবং এটি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। শব্দটির প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে জানতে হলে এর ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
**উষ্ণীষ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সংস্কৃত শব্দ 'উষ্ণীষ' (उष्णीष) এর অর্থ হলো মাথায় পরিধান করা বিশেষ ধরনের পাগড়ি বা টুপি। এটি সাধারণত রাজা, রাজপুরুষ বা ধর্মীয় গুরুদের দ্বারা পরিধান করা হতো।
— প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে, বিশেষ করে মহাকাব্য ও পুরাণে উষ্ণীষের উল্লেখ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, মহাভারতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাজারা উষ্ণীষ পরিধান করতেন।
— বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উষ্ণীষকে প্রায়শই বুদ্ধের মস্তকাবরণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। বুদ্ধের মূর্তিতে প্রায়ই উষ্ণীষ দেখা যায়, যা তার জ্ঞান ও মহত্ত্বের প্রতীক।
— বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে উষ্ণীষ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উদাহরণস্বরূপ, কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় উষ্ণীষ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) অত্যন্ত উষ্ণ: এটি 'উষ্ণীষ' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ নয়। 'উষ্ণ' শব্দটির অর্থ গরম হলেও 'উষ্ণীষ' শব্দটির সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
✗ খ) কুসুম কুসুম উষ্ণ: এটি একটি বর্ণনামূলক শব্দগুচ্ছ, যা 'উষ্ণীষ' শব্দের অর্থ প্রকাশ করে না। 'উষ্ণীষ' শব্দটি কোনো তাপমাত্রা নির্দেশ করে না।
✗ ঘ) শীতের আমেজ: এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। 'উষ্ণীষ' শব্দটির সাথে শীতের কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— সংস্কৃত অভিধান (সংস্কৃত বাংলা অভিধান, রাজশেখর বসু)
— বাংলা একাডেমি অভিধান
— মহাভারত ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থসমূহ
এই বিষয়ের আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে চান?
NTRCA জব সল্যুশন পরীক্ষায় অংশ নিন →