ব্যাখ্যা
◉ প্রাচীন বাংলার অন্যতম জনপদ
হরিকেল
– এর অন্তর্ভূক্ত অঞ্চল বর্তমানে
সিলেট ও চট্টগ্রাম
অঞ্চলে অবস্থিত।
– সুতরাং আলোচ্য প্রশ্নের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর ⎯
ক) সিলেট ও চট্টগ্রাম।
প্রাচীন জনপদ:
– প্রাচীন যুগে বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল এবং এই জনপদবাসীরাই স্ব-স্ব জনপদের নামেই পরিচিতি লাভ করে।
– প্রাচীন কাল থেকে আরম্ভ করে আনুমানিক ষষ্ঠ ও সপ্তম শতক পর্যন্ত প্রাচীন বাংলা ⎯ পুন্ড্রু, গৌড়, রাঢ়, সূহ্ম, তাম্রলিপ্ত, সমতট, বঙ্গ, বরেন্দ্র, চন্দ্রদ্বীপ ইত্যাদি জনপদে বিভক্ত ছিলো।
– এই জনপদগুলো স্বতন্ত্র ও পৃথক, মাঝে মাঝে বিরোধ মিলনে একের সাথে অন্যের যোগাযোগের বিষয়টি লক্ষ করা যায়।
– বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
◉ হরিকেল:
– হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।
– হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে। চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন বলে উল্লিখিত।
অন্যান্য জনপদের অবস্থান:
◉ পুন্ড্রু:
– প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ।
– পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
– এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান ⎯ বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
◉ বঙ্গ:
– বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
– এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।
◉ গৌড়:
– বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহীর অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ছিলো
◉ রাঢ়:
– রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।
◉ সমতট:
– বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
◉ বরেন্দ্র:
– বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
◉ চন্দ্রদ্বীপ:
– বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
◉ তাম্রলিপ্ত:
– বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।
উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programe, উন্মুক্ত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া
iii) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ওয়েবসাইট